# Tags

দৌলতপুরে চোর সন্দেহকে কেন্দ্র করে হামলা: ছেলে নিহত, বাবা আহত

সাইদুর রহমান দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় চোরের অপবাদকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের হামলায় মামুন মোল্লা (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বাবা মোজাম্মেল মোল্লা (৭৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের চাচাতো ভাই ইসমাইল মোল্লার দুই ছেলে উজ্জ্বল মোল্লা (৪৮) ও জাব্বার মোল্লা (৩৫) কে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে জাব্বার মোল্লার বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা হয়। ঘটনাস্থলে একটি টর্চলাইট পড়ে থাকতে দেখে সেটি মামুন মোল্লার বলে সন্দেহ করেন তার চাচাতো ভাইয়েরা। ওই সন্দেহের জের ধরে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে শুকারঘাট এলাকায় মামুন মোল্লাকে পেয়ে জাব্বার মোল্লা ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে থাকা শাবল দিয়ে মামুনের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মোজাম্মেল কে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। মামুন মোল্লার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাগ্নে সৌরভ জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গরু চুরির অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মামুন মোল্লা মামার ওপর হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, চাচাতো ভাইদের হামলায় মামুন মোল্লা নিহত হয়েছেন এবং তার বাবা মোজাম্মেল মোল্লা কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গুলশান থানার মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল মোল্লা ও জাব্বার মোল্লাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।